চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) দুবাইয়ের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন মানবসৃষ্ট দ্বীপ দুবাই আইল্যান্ডের সম্পত্তি খাতে ৬১০ কোটি আমিরাতি দিরহাম বা ১৬৬ কোটি ডলার লেনদেন হয়েছে। আয়ের এ আকার অঞ্চলটিকে দুবাইয়ের দ্রুততম বর্ধনশীল ওয়াটারফ্রন্ট গন্তব্যগুলোর একটিতে প্রতিষ্ঠিত করেছে। খবর অ্যারাবিয়ান বিজনেস।
সম্পত্তি খাতের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বেটারহোমস রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী গত জুন পর্যন্ত ছয় মাসে দুবাইজুড়ে মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ১৩৭ কোটি ডলার। এটি অর্ধ বার্ষিক হিসাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) অন্যতম শহরটির জন্য রেকর্ড।
এ সময় শুধু দুবাই আইল্যান্ডেই ১ হাজার ৯৩৬টি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে, যা একে শহরের সবচেয়ে সক্রিয় ও চাহিদাসম্পন্ন উপকূলীয় অঞ্চলের অন্যতম করে তুলেছে। এখানে লেনদেনের বেশির ভাগই হয়েছে অ্যাপার্টমেন্ট খাতে। ১ হাজার ৮৯৫টি লেনদেনের সম্মিলিত আকার ছিল ১৫৩ কোটি ডলার, ইউনিট প্রতি গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৭৯ লাখ ডলার।
অবশ্য পার্শ্ববর্তী পাম জুমেইরাহর তুলনায় দুবাই আইল্যান্ডে গড় আবাসন মূল্য তুলনামূলকভাবে কম। পাম জুমেইরাহর ৮১৭ ডলারের বিপরীতে এখানে বর্গফুট প্রতি গুণতে হয় ৬৩৭ ডলার। দুবাই আইল্যান্ডকে অনেক বিনিয়োগকারী তুলনামূলকভাবে মূল্য-সাশ্রয়ী ও উচ্চ প্রবৃদ্ধিসম্পন্ন এলাকা হিসেবে দেখছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বেটারহোমসের ডেভেলপমেন্ট সেলস অ্যান্ড কনসালট্যান্সি বিভাগের পরিচালক ওয়াসিম আবদাল্লাহর মতে, দুবাই আইল্যান্ড একটি অনন্য ওয়াটারফ্রন্ট পরিবেশ তৈরি করেছে। যেখানে কার্যকর নগরসংযোগ, ব্র্যান্ডেড আতিথেয়তা ও লাইফস্টাইল প্রকল্পগুলো একত্র হয়েছে। এর একদিকে রয়েছেন রিসোর্টধর্মী আয়েশি জীবনযাপন প্রত্যাশাকারী ধনীরা, অন্যদিকে আয় স্থিতিশীলতা ও মূলধন বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেয়া ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে।
দুবাই ২০৪০ আরবান মাস্টারপ্ল্যানের অংশ হিসেবে দুবাই আইল্যান্ড ১৭ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। এর উপকূলে রয়েছে ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকতরেখা এবং পাঁচটি পরস্পর সংযুক্ত দ্বীপ। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি এ প্রকল্পে রয়েছে বিলাসবহুল আবাসন, হোটেল, খুচরা, বিনোদন ও সাংস্কৃতিক এলাকা।